ময়দানে চলে আসুন
এক.
মুফতিয়ে আজম পািকস্তান হজরত মুফতি শফি রাহ. বলেন, ‘আসমানের নীচে, জমিনের উপর সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য ফিতনা হলো কাদিয়ানি ফিতনা। [খতমে নবুওয়াত পৃ: ৭]
দুই.
ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহি. বলেন, ‘খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ করতে না পারলে রাস্তার পড়ে থাকা কুকুর আমাদের তুলনায় শ্রেষ্ট। [রিসালায়ে ভাহাওয়ালপুর: ১১]
তিন.
পাকিস্তানে কাদিয়ানিদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করা হয় ১৯৭৬ সালে। শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন মুহাদ্দিসুল আসর আল্লামা সাইয়্যিদ ইউসুফ বানুরি রাহ.। ছিলেন, নিরেট ইলমি ময়দানের লোক। দরস-তাদরিস আর লেখালেখিতে জীবন পার করেছেন। ‘মাআরিফুস সুনান’ এর মতো বিষ্ময়কর কিতাব রচনা করেছেন তিনি। সময়ের প্রয়োজনে খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের আমির হন, এবং তার অনমনীয় আন্দোলনে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়, তাদেরকে কাফের ঘোষণা করতে। সেই আন্দোলনে তার ডান হাত ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ফকিহ হজরত মুফতি মাহমুদ রাহ.।
চার.
রায় ঘোষণার আগের দিন। করাচি থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। গাড়ির সামনের সিটে আসন গ্রহণ করেছেন সময়ের শ্রেষ্ট মুহাদ্দিস হজরত বানুরি রাহ.। ঠিক পিছনের সিটে বসা, মুফতি মাহমুদ রাহ.। গভীর চিন্তায় উদ্বিগ্ন তারা। দীর্ঘ আন্দোলন, জেল-জুলুম, হাজারে হাজার মানুষের রক্তের মিছিল পাড়ি শেষে আগামিকাল চূড়ান্ত রায় হবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। চলার পথে হজরত বানুরি রাহ. হঠাৎ করে মুফতি মাহমুদ রাহ.-কে বলেন, ‘মাওলানা, আমি কাফনের কাপড় সাথে নিয়ে যাচ্ছি। সরকার যদি কাদিয়ানিদেরকে কাফের ঘোষণা করে, তাহলে ভালো। নইলে আমি ইউসুফ আর জীবন্ত করাচি ফিরে অাসব না। শাহাদাতের নজরানা পেশ করে আল্লাহর দরবারে হািজরা দিব।’
পাঁচ.
সমাবেশ আমাদের দেশে তো আর কম হলো না। মরহুম খতিব সাহেব রাহ.-এর নেতৃত্বে সমাবেশ হতো সেই নব্বইয়ের দশক থেকে। এই শতাব্দিতেও অনেক সমাবেশে যাওয়া হয়েছে। কাদিয়ানি বিরোধী সমাবেশ আমাদের আবেগের জায়গা। কতো আবেগ মিশিয়ে মিছিল করেছি, কাফের কাফের, কা দি য়া নি রা কাফের।
আজ স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ হচ্ছে ইনশাআল্লাহ। সেই মুফতি মাহমুদ রাহ.-এর সুযোগ্য সন্তান মাওলানা ফজলুর রহমান মুদ্দাজিল্লুহুকে পেয়েছি আমরা। সময় এখন জাগ্রত হওয়ার, জাগ্রত করা। দাবি আদায়ের।
ছয়.
শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফি রাহ.-এর একান্ত ইচ্ছে ছিল, কা দিয়া নিদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণার দাবি আদায় করা। তিনি তৎপর ছিলেন। হজরত আরেকটু হায়াত পেলে এতোদিনে হয়ত: এটা আদায় হয়ে যেত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, হজরত ডাক দিলে যেই দুর্নিবার আন্দোলন শুরু হত, শেখ হা সি না সরকার কাফের ঘোষণা করতে বাধ্য হত। কিন্তু . . .
সাত.
শায়খে মধুপুরি হাফি.। বার্ধ্যকের কাছে মাথা নত না করলেও রোগ ব্যাধি আছে নিশ্চয়। চেষ্টা করছেন, কুশিশ করছেন দিবানিশী। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে কবুল করুন, তাওফিক দান করুন। সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। যদিও সমাবেশ দ্বারা দাবি আদায় হবে না, তবে আমাদের উপস্থিতি সরকারের জন্য নিশ্চয় একটা চ্যালেঞ্জ হবে। তাই আজ আসুন, সদলবলে আসুন। বন্ধু-বান্ধব, সন্তানদের নিয়ে আসুন।
মিছিলে মিছিলে আসুন।
নবির পর নবি নাই, সংসদে আইন চাই
কাফের কাফের, কাদিয়ানিরা কাফের।
আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন।