মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা একজন আপু নিজে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে গেলে তিনি বলেছেন,
“শুধু জিনা-ব্যভিচারই কি ফিতনা!? চোখের ফিতনা, কানের ফিতনা। আরও কত রকম ফিতনা আছে, যাকে আমরা আমলেই নিই না। আমরা সেক্সুয়াল বিষয়টা ছাড়া আর সব ফিতনাকে পাশ কাটিয়ে যাই। যখন আমি মেডিক্যালে পড়েছি, তখন বেপর্দা, পথভ্রষ্ট ছিলাম। ওখানকার সবকিছুই আমি দেখেছি। সহজ কথায়, পরকালকে অগ্রাধিকার দিলে মেডিক্যালে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না। যারা ইতিমধ্যে মেডিক্যালে পড়াশোনা করছেন, তারা পড়ুক। কিন্তু তোমার তাকওয়া বুঝে তুমি সিদ্ধান্ত নাও; তুমি না গেলে নারী ডাক্তার তৈরি হওয়া কমে যাবে না।”
আরও গুরুতর বিষয় হচ্ছে, এদেশের প্রচলিত ধারার পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই সেক্যুলার ও বস্তুবাদি কুফরি চিন্তাদর্শনের ভিত্তিতে গড়া এবং এই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিমূল। এর অন্যতম লক্ষ্যই হচ্ছে, একজন মুসলিম নামে মুসলিম থাকলেও, আকীদা বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনায় হয়ে উঠবে একজন বস্তুবাদি সেক্যুলার মুরতাদ কিংবা নাস্তিক। সে নিজেকে মুসলিম দাবি করলেও অন্য সব কুফরি ধর্মকে সম্মান করা জরুরি মনে করবে।
মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে সালাত আদায় করলেও; সমাজ, রাষ্ট্র ও আইন আদালতে ইসলামকে অচল মনে করবে। ইসলামের বিধানকে উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরায় মনে করবে। ইসলাম ধর্ম ও কুফরি ধর্মকে সমমর্যাদার মনে করবে। ইসলামের অনেক বিধানকে সেকেলে, অচল, পশ্চাতপদ ও বর্বর মনে করবে। ইসলামী বিধানের মোকাবেলায় পশ্চিমাদের বিধানকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও কল্যাণকর মনে করবে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার এসব ফলাফল আজ আমাদের চোখের সামনে। যারাই এই শিক্ষাব্যবস্থার কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছেন, তারাই আজ ঈমানহারা হচ্ছেন। আল্লাহর বিশেষ করুণায় কেউ বেঁচে গেলে ভিন্ন কথা।
“আলী (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হয়ে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।” –সহীহ বুখারী: ৭২৫৭; সহীহ মুসলিম: ১৮৪০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ৩৪৯৯৮
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পথ খুলে দেন এবং তাকে এমনভাবে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করে না। যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন। আল্লাহ তাঁর বিষয় পূর্ণ করেই ছাড়েন। সবকিছুর জন্যই তিনি একটি সীমা নির্ধারিত করেছেন।” -সূরা তালাক: ২-৩
“…রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, যে কোনো ব্যক্তি কোনো হারাম বিষয়ে সক্ষম হয়, তারপর একমাত্র আল্লাহর ভয়ে তা পরিহার করে, তাকে আল্লাহ আখেরাতে যাওয়ার পূর্বে দুনিয়াতেই এমন বস্তু দান করেন, যা তার চেয়ে উত্তম।” -তাফসীরে তাবারী: ১৪/৫৯৩
©️
https://t.me/haqqdeenislam65