[পহেলা বৈশাখ : সাংস্কৃতিক লড়াই ও আগ্রাসন, ধর্মের সাথে অধর্মের দ্বন্দ্ব]
পহেলা বৈশাখ নিছক কোন উৎসব-সংস্কৃতী নয়। এটা সাংস্কৃতিক লড়াই ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। ইসলামের সাথে পৌত্তলিকাতার লড়াই, ধর্মের সাথে অধর্মের দ্বন্দ্ব।
এই লড়াই ও আগ্রাসনে তুমুলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মের বয়ান তুলে ধরতে হবে, ইসলামের মূল বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং অধীনস্থ সহ সকলকে সতর্ক করতে হবে।
কেউ কেউ পহেলা বৈশাখ বা হি*ন্দুদের পূ’জা আসলে বলেন— ‘উৎসব-সংস্কৃতী সর্বজনীন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার।’ অথবা বলেন— ‘সব বিষয়ে ধর্মকে টেনে আনবেন না।’
অথচ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন,
اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَنۡ یُّتۡرَکَ سُدًی ؕ
মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনিই ছেড়ে দেওয়া হবে? [সূরা আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াত : ৩৬]
অর্থাৎ, মানুষ কি মনে করে তাকে দুনিয়ায় এমন স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে যে, সে শরীয়তের কোন আইন-কানুনের আওতায় থাকবে না এবং যা খুশী তাই করতে থাকবে?
হাদীসে এসেছে, তিন প্রকার মানুষ ছাড়া সকলেই সব সময় শরীয়তের আইন-কানুনের আওতায় থাকবে। এ ছাড়া অন্য কারো জন্য ইসলামের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আলী (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন,
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ.
তিন ব্যক্তি হতে কলম (শরীয়তের আইন) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এরা হলো—
১. নিদ্রিত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়,
২. ছোট শিশু যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং
৩. পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়।
[আবু দাউদ ৪৩৫১, পারিভাষিক সহীহ]
সুতরাং, উক্ত তিন প্রকার মানুষ ছাড়া আর কারো জন্য কোন ক্ষেত্রেই গুনাহের কলম বন্ধ হবে না এবং ইসলামের বাইরে যাওয়া যাবে না। তাই মুসলিম-মুমিন দাবিকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামকে টেনে আনা আবশ্যক।
এ জন্যই আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে আদেশ দিয়ে বলেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ادۡخُلُوۡا فِی السِّلۡمِ کَآفَّۃً ۪ وَلَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে-সম্পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শ*য়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ অনুসরণ কর না। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২০৮]
আয়াতটির শানে নুজুল :
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ছালাম, ছা'লাবা ইবনে এয়ামীন, আছাদ প্রমূখ ই’হুদী হতে মুসলমান হয়েছিলেন। কিন্তু পুরাতন ধারণার ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর নিকট বলেন, আমরা ই’হুদী থাকা অবস্থায় শনিবারের দিনকে সম্মান করতাম, এখন মুসলমান হওয়ার পরও আমাদেরকে শনিবার দিনকে সম্মান করার অনুমতি দিন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। [বয়ানুল কোরআন]
সুতরাং আকীদা-বিশ্বাসে, চিন্তা-চেতনায়, দেহ-মনে, পরিবার-সমাজে, লেনদেন-কায়কারবারে, সংস্কৃতী-উৎসবে, বন্ধুত্ব-শত্রুতায়, বিচার-শাস্তিতে, শিক্ষানীতি-রাজনীতিতে ও রাষ্ট্র পরিচালনা সহ সব ক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। কুরআন-সুন্নাহয় যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারই অনুসরণ কর।
আর ইসলামে নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত ও সূফিবাদের বয়ান যেভাবে আছে, তেমনিভাবে গুরুত্বের সাথে বিস্তৃতকারে আলোচিত হয়েছে সমাজ জীবনের বিধি-বিধান ও নীতিমালা। পোশাক- পরিচ্ছেদ, উৎসব-বিনোদন, শিল্প-সংস্কৃতী সহ সবই।
সহীহ্ বুখারীর হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন,
حفت الجنة بالمكاره، وحفت النار بالشهوات.
মনে করতে চায় না এমন কাজ করলে জান্নাত পাওয়া যাবে। আর খাহেশাত ও প্রবৃত্তি পূ’জায় জা*হান্নামে যেতে হবে। [সহীহ্ বুখারী, ৬৪৮৭]
পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাস্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস এগুলো সবই ফ্রি মিক্সিং সহ নানা খাহেশাত ও প্রবৃত্তি পূ’জার এক একটা আয়োজন।
সুতরাং, কোন মুসলমান এগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারে না এবং এর স্বপক্ষেও বলতে পারে না।
— শায়খ সাঈদ আহমদ (হাফি.)
[তত্ত্বাবধায়ক-‘দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ’ বিভাগ, দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্রগ্রাম]