🌻 উত্তম শশুরবাড়ির জন্য দুআ :
শশুরবাড়ি নিয়ে আপনাদের যতো ব্যক্তিগত চাওয়া আছে, সব নোট করে রাখবেন। সেসব তো চাইবেনই,সাথে আমি কিছু বিষয় শেয়ার করি ইনশাআল্লাহ।
⚫️ আল্লাহর কাছে চাইবেন,আপনার শশুরবাড়ি যেন সিহরমুক্ত হয়। আপনার শশুরবাড়ির কেউ যেন জাদু,জ্বিন,বানের পিছনে ছোটাছুটি না করে। একবার এদের কবলে পড়লে জীবন শেষ! তাই আল্লাহর কাছে এই ব্যাপারে বেশি বেশি দুআ করবেন।
⚫️ দ্বীন পালনে সাপোর্টিভ শশুরবাড়ি চাইবেন। একটা পরিবারে সবাই দ্বীনদার হবে না,স্বাভাবিক। কিন্তু দ্বীন পালনে বাধা যেন না দেয়, নন মাহরাম মেইনটেইন করতে যেন আপনার এতটুকু সমস্যা ফেইস করতে না হয়,সেটার জন্য বেশি বেশি দুআ করবেন। এই পয়েন্টটা তাদের জন্য, যারা কঠোরভাবে নন মাহরাম মেইনটেইন করেন। বাবার বাড়িতেও কাজিন,দুলাভাই এসবের সাথে কঠোর পর্দা করেন।
⚫️ আল্লাহর কাছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে পড়ার নসীব চাইবেন। কত বিবাহিতদের দেখেছি,রাঁধতে রাঁধতে আওয়াল ওয়াক্তের নামাজ ছুটে যায়। খুশু-খুযুর সাথে নামাজে দাঁড়াতে পারে না। আল্লাহর কাছে চাইবেন,এতো বেশি কাজের বোঝা যেন আল্লাহ না দেন,যার ফলে ইবাদাতে ঘাটতি আসবে।
⚫️ সুন্দর বাড়ির চেয়ে প্রশান্তিদায়ক বাড়ি বহুগুণ উত্তম। সুন্দর দেখতে শশুরবাড়িতে তো চাইবেনই,তবে তারচেয়ে বেশি প্রশান্তিদায়ক একটা বাড়ি চাইবেন। অনেক বোন শশুরবাড়িতে শান্তি পান না,তারাও এই দুআ করবেন। "ইয়া আল্লাহ, আমার ঘরকে প্রশস্ত করে দাও। প্রশান্তিময় করে দাও।'
⚫️শশুরবাড়ির লোক যেন অতিরিক্ত পেটুক বা একদমই কিপটে না হয়,এই বিষয়ে দুআ করবেন। অতিরিক্ত পেটুক হলে সারাক্ষণ আপনার রান্না করে করে দিন যাবে। আর কিপটে হলে ভালো-মন্দ খাবার জুটবে না৷ দুআ করবেন,তারা বা তাদের স্বভাব যেন আপনার জন্য সহনশীল হয়,প্রশান্তির হয়। অসহ্যকর যেন না লাগে।
⚫️"অন্যের হাঁড়িতে চোখ দেয়",এমন লোক,এমন শশুরবাড়ি থেকে পানাহ চাইবেন। এরা সারাক্ষণ অন্যের কাছে আশা করে। কে কি দেয় না,কি দেয়, এসব গুনতে থাকে। এমন লোকের খপ্পরে পড়লে, আপনার বাবার বাড়ি থেকে খাদ্যদ্রব্য,ফার্নিচার ভিক্ষা আনতে আনতে ক্লান্তি চলে আসবে,তবুও তারা তুষ্ট হবে না৷
⚫️" অতিরিক্ত পরিষ্কার এবং অতিরিক্ত নোংরা" শশুরবাড়ি থেকে পানাহ চাইবেন। নোংরা লোকজন হলে আপনার গলা দিয়ে খাবারটাও নামাতে পারবেন না। খেতে অস্বস্তি লাগবে। অপবিত্র লাগবে সবকিছু। অতিরিক্ত পরিষ্কার বা শুচিবাইগ্রস্ত হলে সারাদিন পরিষ্কার করতে থাকবেন,তবুও ওই লোকগুলো আপনার কাজে দোষ ধরবে।
⚫️পর্দা মেইনটেইন করেই যেন গায়ে রোদ লাগাতে পারেন,রুমে সুন্দর,কল্যাণকর রোদ আসে যেন, এই দুআ করবেন। আজীবন ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকা সম্ভব না। আবার ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে কোমরব্যথা,মন খারাপসহ নানা রোগ শরীরে বাসা বাঁধবে। তখন দুনিয়াটাই ভালো লাগবে না।
⚫️আল্লাহর কাছে পড়ার পরিবেশ চাইবেন। ঘরে যেন পাঠাগার থাকে,সেটার দুআ করবেন। বাচ্চারা যখন ছোটবেলা থেকে বই দেখে দেখে বড় হবে, তারা এমনিতেই পড়ুয়া হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
⚫️অনেক সংসারে যথেষ্ট খাবার থাকা সত্ত্বেও ঘরের বউকে ভালো খাবার খেতে দেওয়া হয় না। আল্লাহর কাছে বরকতময় রিজিক চাইবেন। উত্তম, ভালো খাবার খেয়ে, শক্তি অর্জন করে যেন ইবাদাত করতে পারেন,সে তওফিক চাইবেন। সংকুচিত রিজিক থেকে পানাহ চাইবেন।
⚫️ শশুরবাড়িতে যেন গান-বাজনার প্রসার না থাকে,এই দুআ করবেন। হারাম দিয়ে পূর্ণ ঘরে আল্লাহর রহমত,বরকত প্রবেশ করে না৷
⚫️ আল্লাহর কাছে খোঁটা থেকে আশ্রয় চাইবেন। অপমান থেকে আশ্রয় চাইবেন। সারাক্ষণ ভুল ধরে, এমন মানুষ থেকে আশ্রয় চাইবেন।
⚫️ সুন্দর, বরকতময় পারিবারিক বন্ধন আছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে,এমন পরিবারে বিয়ের জন্য দুআ করবেন। এসব দেখেই পরবর্তী বংশধরেরা বড় হবে।
⚫️গীবতের আসর বসায়, হারাম আড্ডাবাজি চলে, এমন পরিবার থেকে পানাহ চাইবেন। গীবত ছাড়াও উত্তম কথা দিয়ে মজলিস জমানো যায়। এগুলোও নিয়ামাহ্। আল্লাহর কাছে চেয়ে নিবেন।
⚫️ তৃতীয় পক্ষ থেকে পানাহ চাইবেন, যারা আপনাদের হাসবেন্ড ওয়াইফের মধ্যে সমস্যা করতে চাইবে। আমি অনেক পরিবারে দেখেছি,হাসবেন্ড ওয়াইফ একসাথে রুমে অবস্থান করলে শাশুড়ি এসে বসে থাকেন। বা ননদ/ননাস এরা বিরক্ত করেন। হুটহাট ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দেন,অনুমতি ছাড়া।
এসব টক্সিক মানুষজন থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবেন৷ স্বামী-স্ত্রীর প্রাইভেসির ব্যাপারে সচেতন, হায়াওয়ালা পরিবার চাইবেন।
আরো অনেক অনেক দুআ করা যায়, আপাতত মাথায় আসছে না। অন্যের জীবনের দিকে তাকাবেন। সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। তারপর ওই সমস্যাগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবেন।
ব্যস,এভাবেই তো দুআ করতে হয়!
দুআ করলেই যে জীবনটা জান্নাত হবে, আর কোনো সমস্যা থাকবে না,ব্যাপারটা এমন নয়৷ মুসলিম-অমুসলিম সবাই সমস্যাতে জর্জরিত। এই দুনিয়াটাই পরীক্ষা। একটার পর একটা পরীক্ষা আসতে থাকবে, যতদিন না আমরা কবরে যাচ্ছি। আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমাদের করণীয় হলো,আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করবো৷
*সংগৃহীত*©