সবচেয়ে সাহসী সাহাবী
.
হযরত আলী রা.-এর খেলাফত কাল চলছিলো। মিম্বরে দাঁড়িয়ে খলিফা খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সকলের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন-'সাহাবাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী সাহাবা কে?'
'আপনিই' হে আমিরুল মুমিনিন, সকলেই সমস্বরে জবাব দিলো।
খলিফা সামান্য মুসকি হাসলেন। বললেন, 'না, আমি সবচেয়ে সাহসি নই। আমি তো হলাম এমন যে, যে কেউ আমার সাথে মুকাবেলা করতে আসে আমি তার সাথে লড়াই করি। এতে বিশেষ সাহসের কিছু নেই।'
উপস্থিত সকলে স্বপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো খলিফার উত্তরের দিকে। হযরত আলী বলে চললেন,
'বিষয়টি বুঝার জন্য একটি ঘটনা শুনো। ইসলামের তখন প্রথম জামানা। আমিসহ আরো কয়েকজন সাহাবী কাবার প্রাঙ্গনে বসে ছিলাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। এবং নামাজে দাঁড়ালেন। এমন সময় মক্কার কাফের সর্দার উকবাসহ আরো কয়েকজন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। পবিত্র দেহ মোবারকের উপর একের পর এক আঘাত করতেছিলো নরধামগুলো। প্রিয় নবিকে প্রহার করছিলো আর বলছিলো, 'আমাদের সকল ইলাহকে তুই এক ইলাহ বানিয়েছিস, তোর আজ রক্ষা নেই।'
আমরা তা দেখতেছিলাম, কিন্তু কারোই সাহসে কুলোইনি এগিয়ে গিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করবো। এমন সময় হযরত আবু বকর মসজিদে এসে এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখলেন। আর কালবিলম্ব না করে কাফেরদের সেই জটলার উপর ঝাপিয়ে পড়লেন। কাউকে ঘুষি দিয়ে, কাউকে ধাক্কা দিয়ে রাসুল থেকে দূরে সরাতে দিতে থাকলেন। আর চিৎকার করে বলতে লাগলেন, 'তোদের ধ্বংস হোক, তোরা এমন ব্যক্তিকে হ*ত্যা করতে চাচ্ছিস, যে বলে, আল্লাহ আমার রব?'
এতটুকু বলেই হযরত আলী রা. কান্না শুরু করে দিলেন। এরপর সকলকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন,
'আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, বলো তো, ফিরআউনের ঐ বংশের ঐ মুমিন ব্যক্তি বেশি উত্তম যে, ঈমান গোপন করে ফিরআউনকে বলেছিলো, "আপনি এমন একজনে হত্যা করতে চান, যে বলে আমার রব আল্লাহ", নাকি হযরত আবু বকর উত্তম?'
উপস্থিত সকলেই চুপ করে রইলো। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। হযরত আলী রা. বললেন,
'আল্লাহর কসম হযরত আবু বকরের জীবনের এক মুহুর্ত ঐ মুমিন ব্যক্তির পুরো জীবন থেকে উত্তম। কেননা সে ঈমানকে গোপন করেছিলো আর হযরত আবু বকর এক মুহুর্তের জন্যও নিজের ঈমানকে গোপন করেনি। মনে রাখো, হযরত আবু বকরই হলেন সবচেয়ে সাহসী সাহাবী।'
.
সূত্র : ফাতহুল বারী, ৭/১৬৯, কিতাবু মানাকিবিল আনসার, বাবু মা লাকিয়ান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আসবুহু মিনাল মুশরিকিনা বিমাক্কাহ
-আব্দুল্লাহ বিন বশির হাফি.