দিন ১৫ - পিতা-মাতার সেবা
পিতা-মাতার সেবা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ তায়ালা নিজের ইবাদতের সাথে সাথে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের কথা বলেছেন। ❝আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।❞
রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞাসা করা হলো,
❝আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?" তিনি বললেন, "সময়মতো নামাজ পড়া।" বলা হলো, "তারপর কোনটি?" তিনি বললেন, "পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।" বলা হলো, "তারপর কোনটি?" তিনি বললেন, "আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।❞
এই রমজানে মা-বাবার বিশেষ খেদমত করুন। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। তাদের কথা শুনুন। তাদের জন্য ইফতার তৈরি করুন। তাদের সাথে সময় কাটান। তাদের জন্য দোয়া করুন।
রাসূল ﷺ বলেছেন, ❝ধ্বংস হোক সে, ধ্বংস হোক সে, ধ্বংস হোক সে। জিজ্ঞাসা করা হলো, কে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, যে তার পিতা-মাতা অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।❞
মা-বাবা মারা গেলে তাদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন: رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা।" অর্থ: হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।
🔴এই রমজানে অনেক বোন আছেন, যারা বিবাহিত হয়ে শশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন ফলে পিতা-মাতার সরাসরি খেদমত করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় মন খারাপ করা বা নিজেকে বঞ্চিত ভাবার কিছু নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে শশুর-শাশুড়ীর সেবাও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল, বিশেষ করে তা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয়।
শশুর-শাশুড়ীর সাথে সদ্ব্যবহার করুন, তাদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখুন, সম্মান ও ধৈর্যের সাথে কথা বলুন। এই খেদমতের সওয়াবও ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তায়ালা নষ্ট করবেন না।
একই সাথে নিজের পিতা-মাতার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন, নামাজের পর, ইফতারের আগে, সাহরির সময়। ফোনে খোঁজ নিন, ভালো কথা বলুন,এগুলাও খেদমতের অন্তর্ভুক্ত।
মনে রাখবেন, দোয়ার কোনো দূরত্ব নেই। আপনি যেখানে আছেন, সেখান থেকেই আপনার দোয়া মা-বাবার কাছে পৌঁছে যায়।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
©️